বৃহস্পতিবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২১, ০২:১৫ অপরাহ্ন

ঈদগাঁও’তে গ্যাস সিলিণ্ডার ক্রসফিলিং গোদামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: আহত -২

গ্যাস সিলিন্ডার

কক্সবাজার সদরের ঈদগাঁও’তে অবৈধ গ্যাস সিলিন্ডার ক্রসফিলিং ডিপোতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।এতে ওই গো-ডাউনে কর্মরত দুই শ্রমিক অগ্নিদগ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়েছে। আহতদের কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। পরে আশংকাজনক একজনকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে ও হাসপাতালের বার্ণ ইউনিট এন্ড প্লাস্টিক সার্জারী ইনস্টিটিউটে স্থানান্তর করা হয়েছে বলেও জানা গেছে।
৪ই ডিসেম্বর সকাল সাড়ে ৭ টার দিকে ঈদগাঁও কলেজ গেইটস্থ ককসবাজার – চট্টগ্রাম মহাসড়ক সংলগ্ন গ্যাস গোডাউনে এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, হঠাৎ বিকট শব্দে আশপাশের বাড়িঘর,বিল্ডিং থর থর করে কেঁপে উঠে এবং চারদিকে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। আতংকিত মানুষজন ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটতে থাকে। একের পর এক গ্যাসসিলিণ্ডার বিষ্ফোরণের বিকট শব্দ আর আগুনের লেলিহান শিখায় বন্ধ হয়ে যায় মহাসড়কের যান চলাচল।
আধা ঘণ্টা পর রামু থেকে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট এসে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। তাদের এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। ততক্ষণে ওই ডিপোটির ৮০ ভাগ পুড়ে যায়।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান,
আবু ছৈয়দের অবৈধ গ্যাস সিলিন্ডারের গো-ডাউনের ভেতর থেকে অগ্নিকাণ্ড সংগঠিত হয়েছে। অগ্নিকাণ্ড সংগঠিত হওয়ার পর থেকে আগুন নেভাতে চেষ্টা করে স্থানীয় লোকজন।

এই ঘটনায় দীর্ঘক্ষণ মহাসড়কের দুই পাশে দুরপাল্লার যানবাহন আটকা পড়ে। আগুন লাগার ঘটনা চারদিক ছড়িয়ে পড়লে অসংখ্য উৎসুক জনতার ভীড় জমে। পরে ঘটনাস্থলে আসেন ঈদগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছৈয়দ আলম, তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ ইনস্পেক্টর আবদুল হালিম।
স্থানীয়দের অভিযোগ দীর্ঘদিন যাবৎ দুই সহোদর আবু তৈয়ব( প্রকাশ তৈয়ব চৌধুরী) ও আবু ছৈয়দ নিয়মনীতি, পরিবেশের তোয়াক্কা না করে অতিমুনাফার লোভে অবৈধ গ্যাসসিলিণ্ডার ক্রসফিলিং( গ্যাসে বড় বোতল থেকে ছোট বোতলে স্থানান্তর করা) এবং ওই সিলিণ্ডার বাজারজাতকরণের সংঘবদ্ধচক্র গড়ে তুলে। প্রথমে ইসলামাবাদ ইউনিয়নের বোয়ালখালী এলাকায়, এরপর ফকিরাবাজার এলাকায় গড়ে তুলে গ্যাস সিলিণ্ডারের রিফিলিংয়ের কারখানা।প্রশাসনে নজরে আসলে ৩ লক্ষ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। পরে স্থান ও কৌশল পরিবর্তন করে কবি মুহাম্মদ নুরুল হুদা সড়ক সংলগ্ন বীরমুক্তিযোদ্ধা মরহুম এসটিএম রাজা মিয়ার বাড়ির দক্ষিণপাশে কারখানার নতুন ঠিকানা পাতে। সেখানেও উপজেলা প্রশাসনে জরিমানা ও ধাওয়া খেয়ে ইউনিয়ন পরিবর্তন করে ঈদগাঁহ ইউনিয়নের মেহেরঘোনা এলাকায় মহাসড়কের পাশে জমি কিনে গড়ে তুলে এই অবৈধ কারখানা।
অবৈধভাবে গ্যাস সিলিন্ডার মজুদ এবং মহাসড়ক সংলগ্ন ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ ক্রসফিলিং ব্যবসা বন্ধে বিভিন্ন সময় প্রশাসনকে অবহিত করলেও বার বার জরিমানা দিয়ে পার পেয়ে যায় অভিযুক্ত দুই সহোদর আবু তৈয়ব ও আবু ছৈয়দ। প্রতারণার মাধ্যমে গ্যাস সিলিণ্ডারের ভোক্তাদের ঠকিয়ে হাতিয়ে নিয়েছে লক্ষ লক্ষ টাকা। ঈদগাহবাজারে গলির মুখে পান সুপারী বিক্রেতা বনে গেছে আঙ্গুল ফোলে কলা গাছ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ব্যবসায়ী বলেন, তৈয়ব ও ছৈয়দ অল্পদিনেই কোটি টাকার মালিক। আইনের ফাঁক ফোকর, মাঠপ্রশাসনের শৈথিল্য ও স্থানীয় নেতাদের মাসোহারা দিয়ে বশ করে ক্রমশই ধুরন্ধুর ও বেপরোয়া হয়ে উঠে ওই ভ্রাতৃদ্বয়।
প্রশাসনের নাকের ডগায় দেশের প্রচলিত আইন, পরিবেশ ও জননিরাপত্তার প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ট্রেড লাইসেন্স, পরিবেশ ছাড়পত্র,বিষ্ফোরক লাইসেন্স,অগ্নিনির্বাপন ব্যবস্থা ছাড়াই দিনের পর দিন লোকঠকানো এই ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবসার মাধ্যমে হাতিয়ে নিয়েছে কোটি কোটি টাকা। কঠোর পদক্ষেপ না নেয়ায় আজকের এই দুর্ঘটনা।

এছাড়া তাদের মালিকানাধীন বাঁশঘাটা গো-ডাউনেও অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা না থাকায় আগুনের ঘটনা ঘটেছিল বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ। গো-ডউনে নেই যথাযথ অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র, নেই পরিবেশ ছাড়পত্র,নেই বনবিভাগের অনুমতি,নেই অনুমোদনের যথাযথ কাগজপত্র।

স্থানীয় বাসিন্দা আবুল বাশার জানান,রাত গভীর হলেই গ্যাসের গো-ডাউনে ট্রাকে করে বড় গ্যাসের সিলিন্ডার আসে এবং গভীর রাত অবধি সে গুলো রিফিল করে কক্সবাজারের আনাচে কানাচে সরবরাহ করে আসছিল। এছাড়া তার বিরুদ্ধে রয়েছে ওজনে কারচুপি করে কম গ্যাস দিয়ে সহজ-সরল গ্রাহকদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ।

এই বিষয়ে মালিকপক্ষ আগুনের ঘটনাটিকে একটি অনাকাঙ্কিত দূর্ঘটনা বলে দাবী করলেও এলাকাবাসীর দাবি ব্যবসাটি অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও এদের ছিলনা কোন কার্যকর ব্যবস্থা।
এই ব্যবসার ট্রেড লাইসেন্স কে দিয়েছে এমন প্রশ্নে ঈদগাহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব ছৈয়দ আলম জানান, এমন ব্যবসার জন্য ঈদগাহ ইউপি থেকে কোন ট্রেড লাইসেন্স ইস্যু করা হয়নি।
কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সুত্রে জানা গেছে,এদের কোন বিষ্ফোরক সনদ ও পরিবেশ ছাড়পত্র কোনটাই নেই। দুর্ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়নি কোন ফায়ার এক্সটিনগুজার।

প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে ঈদগাহবাজারের আনাচে কানাচে বিক্রি হচ্ছে গ্যাস সিলিণ্ডার। এতে ঘটছে অনেক দূর্ঘটনা ও প্রাণহানি। স্থানীয় সচেতনমহলের দাবি গ্যাস সিলিণ্ডার বিষ্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি সুষ্ঠু তদন্তসাপেক্ষে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করে জননিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হউক।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেইসবুক পেইজ