বৃহস্পতিবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২১, ০৫:১১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :

কর্ণফুলী নদী হতে রোহিঙ্গা ভর্তি ৭টি জাহাজ ভাসানচরের পথে

ভাসানচরে যাচ্ছে রোহিঙ্গারা

নোয়াখালীর ভাসানচরে যেতে চাওয়া ১০০ রোহিঙ্গা পরিবার কক্সবাজারের ঘিঞ্জি শরণার্থী শিবিরগুলো থেকে গতকাল আনা হয় উখিয়া কুতুপালংয়ের ট্রানজিট পয়েন্ট। পরে ৩৫টি বাস যোগে চট্টগ্রাম।

আজ শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টায় একশ’ পরিবারের মোট ১ হাজার ৬৪২ জন রোহিঙ্গাকে কর্ণফুলী নদীতীর বোট ক্লাব এলাকা হতে কঠোর নিরাপত্তায় ভাসানচরের উদ্দেশে রওনা হয়েছে রোহিঙ্গা বহনকারী জাহাজ।

সূত্রমতে, বাস্তুচ্যুতদের মধ্যে এক লাখ রোহিঙ্গাকে সাময়িকভাবে বসবাসের জন্য নোয়াখালীর হাতিয়ায় ভাসানচরে তৈরি করা হয়েছে প্রাকৃতিক পরিবেশে দৃষ্টিনন্দন আবাসন ব্যবস্থা। শহরের অধিকাংশ আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সেখানে নিশ্চিত করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তত্ত্বাবধানে কুতুপালংসহ আরও কিছু ক্যাম্প থেকে রোহিঙ্গাদের গাড়িতে করে নিয়ে প্রথমে চট্টগ্রামে আনা হয়। পতেঙ্গায় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর রেডি রেসপন্স বাথ, বিএফ শাহীন কলেজ, বোট ক্লাব এলাকায় অস্থায়ী ট্রানজিট পয়েন্ট স্থাপন করা হয়েছে। পাশেই জেটিতে রয়েছে বেশ কয়েকটি জাহাজ। এখান থেকেই জলপথে রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিক বিল্লাহ জানান, রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তরের বিষয়ে র‌্যাব শুধু আইনশৃঙ্খলার বিষয়টি দেখভাল করছে। সার্বিক নিরাপত্তায় র‌্যাবের সজাগ দৃষ্টি রয়েছে।

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর চরম নজিরবিহীন নৃশংসতার শিকার হয়ে বিভিন্ন সময় দেশটি থেকে সাড়ে ১১ লাখ রোহিঙ্গা বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আসে। মাঝে দুই দফায় রোহিঙ্গাদের রাখাইনে প্রত্যাবাসনের জন্য দিনক্ষণ চূড়ান্ত হলেও তাদের পাঠানোর প্রক্রিয়া সফল হয়নি। মূলত মিয়ানমার কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি। ফলে বহুদিন ধরেই কক্সবাজারের বিভিন্ন ক্যাম্পে তারা বসবাস করে আসছেন। সেখানে চাপ কমানোর জন্য আপাতত সাময়িকভাবে রোহিঙ্গাদের একটি অংশকে ভাসানচরে স্থানান্তর করা হচ্ছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, শুরুতে যেতে আগ্রহী রোহিঙ্গাদের তালিকা তৈরি করা হয়। বৃহস্পতিবার যখন অনেক পরিবার ভাসানচরের উদ্দেশে রওনা হন, তখন আরও কিছু পরিবারও তাৎক্ষণিকভাবে আগ্রহ প্রকাশ করে। আগে তারা ভাসানচরে যাওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্তহীনতায় ছিলেন। প্রথম ধাপে রোহিঙ্গারা সেখানে গিয়ে যখন দেখবে বসবাসের পরিবেশ ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা কক্সবাজারের তুলনায় অনেক ভালো, তখন আরও অনেকেই সেখানে যেতে চাইবে।

ভাসানচরে এরই মধ্যে তৈরি করা হয়েছে এক হাজার ৪৪০টি ক্লাস্টার হাউস ও ১২০টি শেল্টার স্টেশন। গুচ্ছ গ্রামের আদলে নির্মাণ করা হয়েছে এসব ক্লাস্টার হাউস। প্রতিটি ক্লাস্টার হাউসে ১২টি গৃহ। প্রতি গৃহে রয়েছে ১৬টি রুম। একেক রুমে চারজন থাকার ব্যবস্থা। রোহিঙ্গারা কক্সবাজারের তুলনায় ভাসানচরে অনেক ভালো প্রাকৃতিক নান্দনিক পরিবেশে বসবাস করতে পারবেন বলে নিরাপত্তাকর্মীরা জানান।

সংশ্নিষ্ট সূত্র জানায়, কক্সবাজারের বিভিন্ন ক্যাম্প থেকে রোহিঙ্গাদের নিয়ে প্রথমে উখিয়া ট্রানজিট পয়েন্ট ও কলেজ মাঠে অস্থায়ী ক্যাম্পে রাখা হয়। সকালে তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও অন্যান্য প্রক্রিয়া শেষ করে বাসে তোলা হয়। এরপর সড়কপথে রোহিঙ্গাদের নেওয়া হয় চট্টগ্রামের পতেঙ্গা। সেখান থেকে শুক্রবার সকালে জাহাজে করে ভাসানচরে নেওয়া হচ্ছে।

মাঠ পর্যায়ে থাকা সরকারি একাধিক কর্মকর্তা জানান, ভাসানচরে যেতে ইচ্ছুক রোহিঙ্গাদের বুধবার রাত থেকে নিজ নিজ ক্যাম্প থেকে উখিয়ার দুটি অস্থায়ী ক্যাম্পে এনে রাখা হয়েছিল।

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উখিয়া কলেজ মাঠে গিয়ে দেখা যায়, রোহিঙ্গাদের বহন করতে আসা অর্ধশত বাসের দীর্ঘ লাইন। সেখানে তাদের মালপত্র বহন করতে নিয়ে আসা হয়েছে বেশ কয়েকটি ট্রাকও। সব মিলিয়ে ৯০টি গাড়ি ছিল। এ সময় তাদের সঙ্গে শেষ দেখা করতে স্বজনরা ভিড় করেন সেখানে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সকাল ৬টার দিকে দুটো জাহাজে মোট ১ হাজার ১৯টি লাগেজ পাঠানো হয়। এরপর সাড়ে ১০টার দিকে রোহিঙ্গাদের বহনকারী জাহাজগুলো রওনা হয়। রোহিঙ্গাদের বহনকারী জাহাজের ছয়টি নৌবাহিনীর, একটি সেনাবাহিনীর। সেনাবাহিনীর জাহাজটির নাম ‘শক্তি সঞ্চার’। আরও ১৯টি জাহাজ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এর মধ্যে স্কট জাহাজও রয়েছে।

সংশ্নিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তরে প্রয়োজনীয় পরিবহন ব্যবস্থা ও খাদ্যসামগ্রী মজুদ করা হয়েছে। রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে নেওয়ার আগে প্রস্তুতি দেখতে ২২টি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার (এনজিও) প্রতিনিধি সোমবার ভাসানচর পরিদর্শন করেন। তারা সরকারের পরিকল্পিত আয়োজনে সন্তোষ প্রকাশ করেন। রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে নেওয়ার বিষয়ে সহযোগিতার আশ্বাস দেন এনজিও প্রতিনিধিরা। সেখানে উন্নতমানের একটি আবাসিক এলাকায় যে ধরনের সুযোগ-সুবিধা থাকার কথা, তার সবই রয়েছে বলে তারা জানান।

 

সূত্র ★ CBN


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেইসবুক পেইজ