বৃহস্পতিবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২১, ০৬:০০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :

কুতুবদিয়া দ্বীপের সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের কক্সবাজার দেখা

কুতুবদিয়া

উখিয়া প্রেস ডেস্কঃ কুতুবদিয়া দ্বীপের সুবিধাবঞ্চিত ৩০ জন কিশোর-কিশোরী শিক্ষার্থী কক্সবাজার দেখার সুযোগ পেয়ে আনন্দে আত্মহারা হয়ে পড়েছে। বঙ্গোপসাগরের বুকে ভাসমান দ্বীপ কুতুবদিয়ার এসব কিশোর-কিশোরী এর আগে তাদের জেলা শহর কক্সবাজার দেখার সুযোগ পায়নি। কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক এসব সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের এমন সুযোগ করে দিয়েছেন।

এছাড়া দ্বীপের শিশু-কিশোরদের কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়ক ভ্রমণে নিয়ে যাওয়া হয়। তাদের দেখানো হয় হিমছড়ি ঝরনা ও ইনানীর পাথুরে সৈকত। এসব শিশু-কিশোরদের দেখার সুযোগ করে দেওয়া হয় কক্সবাজার শহরসহ আকর্ষণীয় স্থানগুলো।

গতকাল রবিবার সকালে কুতুবদিয়া দ্বীপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এসব শিক্ষার্থীদের দ্বীপ থেকে দুটি স্পীড বোট

যোগে কক্সবাজার ভ্রমণে নিয়ে যান। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণি থেকে নবম-দশম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত ৩০ জন শিক্ষার্থীর কেউই এর আগে কক্সবাজার শহর দেখার সুযোগ পায়নি।

সাগরদ্বীপ কুতুবদিয়া দ্বীপ থেকে জেলা শহর দেখাতে আনা কিশোর শিক্ষার্থীদের রাত যাপনের ব্যবস্থাও করে দেওয়া হয়েছে কক্সবাজার সাগর পাড়ের হোটেল সী প্রিন্সেস নামের একটি বিলাস বহুল হোটেলে। দ্বীপের সুবিধাবঞ্চিত এসব শিক্ষার্থীদের নিয়ে রাতে সাগর পাড়ের ওশ্যান প্যারাডাইজ নামের আরেকটি বিলাস বহুল হোটেলের সৌজন্যে নৈশ ভোজেরও আয়োজন করা হয়।

এসব নিয়ে মজার গল্প শোনালেন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন। রাতে হোটেলের নৈশ ভোজের অনুষ্ঠানটিতে জেলা প্রশাসক জানান, গত ২৯ নভেম্বর তিনি কুতুবদিয়া দ্বীপে সরকারি সফরে গিয়ে রাত যাপন করেছিলেন। সেইদিন সন্ধ্যায় দ্বীপের সৈকত দর্শনে গিয়ে তিনি অনেক কিশোর শিক্ষার্থীদের সাক্ষাৎ পান। এসব শিক্ষার্থীদের সাথে তিনি আড্ডায় মেতে ওঠেন দ্বীপের সৈকতে।

শিশু-কিশোর শিক্ষার্থীদের সাথে এ কথা-ওকথা বলতে গিয়েই তিনি জানতে পারেন দ্বীপের সুবিধা বঞ্চিত এসব শিক্ষার্থীদের কারও কক্সবাজার দেখার সুযোগ হয়নি। শিক্ষার্থীরা জেলা প্রশাসককে জানান, তারা সবাই জানে কক্সবাজার বিশ্বব্যাপী পরিচিত একটি স্থান। তবে আর্থিক সঙ্গতিসহ নানা কারণে তাদের কারও ভাগ্যে সেই স্বপ্নের কক্সবাজার দেখার সুযোগ হয়নি।

জেলা প্রশাসক বলেন, আমি এসব শিশুদের এ কথা শুনেই সিদ্ধান্ত নিই, তাদের কক্সবাজার দেখানোর ব্যবস্থা করব। দুনিয়ার সাত-সাগর তের নদী পাড়ি দিয়ে স্বাস্থ্যকর স্থান কক্সবাজারে মানুষ বেড়াতে আসেন। অথচ আমারই জেলার একটি শিশু কক্সবাজার দেখবে না-তা হতে পারে না।

জেলা প্রশাসক বলেন, এসব শিশুদের ‘স্বপ্ন দেখা’র জন্য উৎসাহিত করতে হবে। স্বপ্ন

না দেখলে কেউই সামনে এগুতে পারে না। তিনি আরো জানান, পর্যায়ক্রমে দ্বীপের আরো শিশু-কিশোর শিক্ষার্থীদের এরকম শিক্ষা সফর হিসাবে কক্সবাজার দেখাতে আনা হবে।

জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত নৈশ ভোজের অনুষ্ঠানে মহেশখালী-কুতুবদিয়া সংসদীয় আসনের এমপি আশেক উল্লাহ রফিক, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের পরিচালক ও কক্সবাজারের জেলা প্রশাসকের সহধর্মীনী গুলশান আরা, কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট ফরিদুল ইসলাম চৌধুরী, কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. মাসুদুর রহমান মোল্লা, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাজাহান আলী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. আমিন আল পারভেজ সহ জেলা প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেইসবুক পেইজ