রবিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২১, ০৮:৫১ পূর্বাহ্ন

মঙ্গলবার রোহিঙ্গাদের দ্বিতীয় দল ভাসানচরে স্থানান্তর

রোহিঙ্গাদের ভাসানচর

কক্সবাজারের শিবির থেকে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের দ্বিতীয় দল ভাসানচরে আগামী মঙ্গলবার স্থানান্তর করা হচ্ছে। ভাসানচরে যেতে ইচ্ছুক কমবেশি সাড়ে ৭শ’ রোহিঙ্গা দ্বিতীয় দফায় স্থানান্তর করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শর্তে এক কর্মকর্তা বলেন, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের দ্বিতীয় দল প্রথমে চট্টগ্রামে নিয়ে যাওয়া হবে। পরে জোয়ার-ভাটার ওপর নির্ভর করে ভাসানচরে স্থানান্তর করা হবে।
নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক খোরশেদ আলম বলেন, আগামী মঙ্গলবার কক্সবাজার থেকে রোহিঙ্গাদের দ্বিতীয় দল ভাসানচরে পৌঁছার সম্ভাবনা আছে।
ভাসানচর প্রকল্পের (আশ্রয়ণ প্রকল্প-৩) উপপ্রকল্প পরিচালক কমান্ডার এম আনোয়ারুল কবির বলেন, রোহিঙ্গাদের দ্বিতীয় দলটি ভাসানচরে স্বাগতম জানাতে আমরা প্রস্তুত। আগামী মঙ্গলবার দ্বিতীয় দলটি ভাসানচরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
তবে এর আগে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ এনামুর রহমান বলেন, আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যেই কক্সবাজারের শরণার্থী শিবির থেকে রোহিঙ্গাদের দ্বিতীয় দল ভাসানচরে স্থানান্তর করা হবে। তবে কতজন রোহিঙ্গা দ্বিতীয় দফায় স্থানান্তর করা হচ্ছে তা বলতে পারেননি তিনি।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গাদের দ্বিতীয় দল ভাসানচরে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় বিষয়টির নেতৃত্ব দিচ্ছে।
সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে ২৩১২ কোটি টাকা ব্যয়ে মোটামুটি ১৩ হাজার একর আয়তনের ওই চরে ১২০টি গুচ্ছগ্রামের অবকাঠামো তৈরি করে এক লাখের বেশি মানুষের বসবাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর আগে ৪ ডিসেম্বর রোহিঙ্গাদের প্রথম দলে এক হাজার ৬৪৫ জনকে কক্সবাজারের ক্যাম্প থেকে ভাসানচরে স্থানান্তর করা হয়।
ভাসানচরে রোহহিঙ্গাদের প্রথম দল যখন নেওয়া হয় তখন বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা আপত্তি জানায়। রোহিঙ্গাদের প্রথমে বাসে করে চট্টগ্রামে নেয়া হয়, এরপর সেখান থেকে তাদের নৌ বাহিনীর জাহাজে করে ভাসানচরে পাঠানো হয়। সে সময় জাতিসংঘ আবাসিক সমন্বয়কারীর কার্যালয় থেকে বিবৃতি দিয়ে বলা হয়, কক্সবাজার থেকে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ভাসানচরে সরিয়ে নেয়ার পরিকল্পনা সম্পর্কে জাতিসংঘ অবগত আছে। কিন্তু শরণার্থীদের স্থানান্তর প্রস্তুতি কিংবা রোহিঙ্গাদের শনাক্তকরণ প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংস্থাটিকে যুক্ত করা হয়নি।
মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অব্যাহত হামলা, নিপীড়ন ও হত্যার কারণে ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট দেশ ছেড়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নেয় সাড়ে সাত লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা। এছাড়াও এর আগে এসে আশ্রয় নিয়েছিল বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা। বর্তমানে তাদের সংখ্যা কমপক্ষে ১১ লাখ। এ পরিস্থিতির মধ্যেই রোহিঙ্গাদের উখিয়া ও টেকনাফের ঘনবসতিপূর্ণ ক্যাম্পগুলো থেকে সরিয়ে নিরাপদে রাখতে নোয়াখালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ ভাসানচরে নিজস্ব অর্থায়নে বিপুল ব্যয়ে আশ্রয় ক্যাম্প নির্মাণ করে সেখানে ধাপে ধাপে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিচ্ছে সরকার।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেইসবুক পেইজ