মঙ্গলবার, ০৯ মার্চ ২০২১, ০১:০০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :

মিয়ানমার নিয়ে জাতিসংঘের আলোচনায় রোহিঙ্গা ইস্যুও তুলতে চায় বাংলাদেশ

রোহিঙ্গা

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে আজ মঙ্গলবার (২ ফেব্রুয়ারি) মিয়ানমার পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হবে। বাংলাদেশ চায় শুধু রাজনৈতিক পরিস্থিতি নয়, রোহিঙ্গা ও তাদের প্রত্যাবাসনও যেন আলোচনায় থাকে। আজ পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

তিনি বলেন, ‘জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে এই মিটিং আগে থেকে হওয়ার কথা ছিল। এই লক্ষ্যে আমরা কাজ করছিলাম। সেখানে আমাদের যে অবস্থান তা হলো, একদিকে জবাবদিহি ও বিচার এবং অন্যদিকে প্রত্যাবাসনের বিষয়টি।’

বাংলাদেশ উন্মুক্ত আলোচনা চেয়েছিল জানিয়ে তিনি বলেন, ‘কিন্তু পরে সিদ্ধান্ত হয়েছে এটি রুদ্ধদ্বার বৈঠকে হবে। এটি এই সপ্তাহে হওয়ার কথা ছিল। সেটিকে এগিয়ে নিয়ে আসা হয়েছে। কারণ, পরিপ্রেক্ষিত পরিবর্তন হয়েছে। আগে যে নিয়মিত আপডেটের বিষয় ছিল, জাতিসংঘ মহাসচিবের রিপোর্টের বিষয় ছিল, সেটি এবারও থাকবে।’

তিনি বলেন, ‘এবারের বৈঠকটি হচ্ছে বিশেষ পরিপ্রেক্ষিতে। সে কারণে আলোচনার বিষয়বস্তু কিছুটা ভিন্ন হয়ে যাবে। অর্থাৎ গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং অন্যান্য যে উদ্বেগের বিষয় আছে সেগুলো থাকবে। কিন্তু আমরা আশা করবো রোহিঙ্গা এবং তাদের প্রত্যাবাসনের বিষয়গুলোও যেন আলোচিত হয়। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক বিষয়গুলো আলোচিত হবে এবং রোহিঙ্গা বিষয়টি পেছনে পড়ে থাকবে এটা আমরা চাই না।’

মিয়ানমারের সঙ্গে যোগাযোগ

মিয়ানমারে নতুন কেবিনেট গঠন করা হয়েছে, যেখানে ১১ জন মন্ত্রী আছে। তারা কার্যক্রম শুরু করলে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করবে সরকার।

পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ‘এই মুহূর্তে তারা যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ঘোষণা দিয়েছে, সেখানে ১১ জন মন্ত্রীর কথা শুনতে পেরেছি। নতুন মন্ত্রীরা কাজ শুরু করলে তাদের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ রাখার ক্ষেত্রে কোনও সমস্যা দেখি না। মিয়ানমারে বেশিরভাগ সময়ে এ ধরনের সরকার ছিল। তার জন্য সম্পর্ক বন্ধ রাখার কোনও কারণ দেখছি না।’

তবে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত নতুন সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ হয়নি।

৪ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ-চীন-মিয়ানমার ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের জন্য আমরা চীনের সঙ্গে যোগাযোগ করছি। আমরা ও চীন ৪ ফেব্রুয়ারি বৈঠক করতে চাই। এ বিষয়ে মিয়ানমার আগে একটি সময় দিয়েছিল। এখন ওই সময়টা থাকবে নাকি পরিবর্তিত পরিস্থিতির কারণে অন্যদিন হবে, সেটি দেখতে হবে।’

বৈঠক অনিশ্চিত কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা আগামীকাল (বুধবার) পর্যন্ত অপেক্ষা করি। আমরা গতকালকেই বলেছি তৈরি আছি এবং যে-ই ক্ষমতায় আসুক তাদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যেতে চাই। সুতরাং সেটির জবাব পাইনি। যদি সেটির জবাব না পাই তখন বলতে পারবো বিষয়টি পিছিয়ে গেছে।’অবরোধ বিষয়ে অবস্থান

বিদেশি কোনও রাষ্ট্র বা সংস্থা শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নিলে বাংলাদেশের অবস্থান কী হবে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ‘প্রতিটি দেশ, প্রতিটি সংস্থা তাদের স্বার্থ দেখবে এবং আমরা আমাদের স্বার্থ দেখবো। বাংলাদেশের স্বার্থ হচ্ছে রোহিঙ্গাদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে ফেরত পাঠানো। সে অনুযায়ী আমরা কাজ করবো।’

সামরিক বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, রাষ্ট্রের সঙ্গে রাষ্ট্রের সম্পর্ক এবং সেখানে আমাদের সেনাপ্রধান সফর করেছেন। বিভিন্ন স্তরে কূটনৈতিক সম্পর্ক আমরা রাখি।

মিয়ানমারে অবস্থিত বাংলাদেশিদের সম্পর্কে তিনি বলেন, তাদের চলাচল এই মুহূর্তে কিছুটা সীমাবদ্ধ। এছাড়া টেলিফোন ও ইন্টারনেট লাইনে সমস্যা আছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেইসবুক পেইজ