মঙ্গলবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২১, ০৭:৪৩ পূর্বাহ্ন

যুক্তরাষ্ট্রে করোনার ভয়াবহতা চরমে

করোনা ভাইরাস

ভ্যাকসিন বাজারে আসছে শিগগিরই-এমন একটি পরিস্থিতির মধ্যেই করোনাভাইরাসের চতুর্মুখী সংক্রমণ ভয়ংকর আকারে বেড়ে চলছে। ক্যালিফোর্নিয়া স্টেটের লসএঞ্জেলেস সিটিতে সোমবার থেকে ঘরে থাকার নির্দেশ জারি হয়েছে। অন্তত ২৩ স্টেটে গত সাতদিন ধরেই সংক্রমণের আগের রেকর্ড ছাড়িয়ে যাচ্ছে।

ওয়ার্ল্ডোমিটারের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার বেলা ১১টা পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে ১ কোটি ৩৪ লাখ ৫৪ হাজার ২৫৪ জন আক্রান্ত হয়েছেন।

জন্স হপকিন্স ইউনিভার্সিটির তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার ১২০০ জনের মৃত্যু হয়। এ নিয়ে মোট ২ লাখ ৬৪ হাজার ৮৪৪ আমেরিকানের মৃত্যু হলো করোনায়।

সর্বশেষ সাউথ ডেকটায় মৃত্যুর হার বৃদ্ধি পাওয়ায় করোনায় প্রতি হাজার অধিবাসীর একজন করে মৃত্যুবরণকারী ৮ স্টেটের সাথে এটি যুক্ত হলো বলে নিউইয়র্ক টাইমসের গবেষণা জরিপে উল্লেখ করা হয়েছে। স্টেটগুলো হচ্ছে নিউইয়র্ক, নিউজার্সি, ম্যাসেচুসেটস, কানেকটিকাট, লুইজিয়ানা, রোড আইল্যান্ড, মিসিসিপি, নর্থ ডেকটা এবং সাউথ ডেকটা।

উল্লেখ্য, শীত মৌসুমে করোনার দ্বিতীয় ধাক্কা লাগার যে আশঙ্কা চিকিৎসা-বিজ্ঞানীরা করেছিলেন, তা শতভাগ মিলে যাচ্ছে। এই ঢেউ বেগবান হয়েছে ৩ নভেম্বরের নির্বাচন ঘিরে স্বাস্থ্যবিধি না মানার প্রতিযোগিতা এবং সর্বশেষ থ্যাঙ্কস গিভিং ডে উপলক্ষে লাখ লাখ আমেরিকানের ভ্রমণ-বিলাসিতা থেকে।

নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও স্বাস্থ্য-বিজ্ঞানীরা বারবার অনুরোধ করেছিলেন, থ্যাঙ্কস গিভিং ডে’র উৎসব-আয়োজন সীমিত করতে। পারতপক্ষে স্বজনের সাথে মিলিত না হবার অনুরোধও ছিল।

কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে সে অনুরোধে সাড়া মেলেনি বলে স্টেট প্রশাসন স্বীকার করেছে। করোনা নিয়ে এমন হেয়ালিপনার খেসারত হিসেবে শুক্রবার অন্তত ২৩ স্টেটের হাসপাতালে সিট ভরে গেছে রোগীতে।

চিকিৎসকরা আশঙ্কা করছেন, সামনের সপ্তাহ পর্যন্ত সংক্রমণ বৃদ্ধির এই ভয়াবহতা অব্যাহত থাকতে পারে। সিডিসির পক্ষ থেকে অবশ্য যুক্তির অবতারণা করা হয়েছে যে, টেস্ট বাড়ায় সংক্রমণের হারও বাড়ছে। তবে সে তুলনায় মৃত্যুর হার অনেক সীমিত।

বিরাটসংখ্যক মানুষ টেস্টে পজিটিভ রেজাল্ট জানার পরই হাসপাতালের পরিবর্তে নিজ বাসায় চিকিৎসা নিচ্ছেন।

এদিকে, শুক্রবার রাতে বিদায়ী প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প টুইটে কংগ্রেসের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, নয়া একটি করোনা রিলিফ বিল পাসের জন্য। করোনার কারণে রেস্টুরেন্টসহ বিভিন্ন সেক্টরের নাজুক অবস্থার প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন ট্রাম্প। অর্থনৈতিক দুর্দশায় পতিত মানুষ ও ব্যবসাকে রক্ষায় নয়া একটি ইকোনমিক প্যাকেজের দ্রুত প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের (সিডিসি) এক গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, করোনায় সংক্রমিত হয়েছে এমন প্রতি ৮ জনের মধ্যে মাত্র একজন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। অর্থাৎ নানাবিধ কারণে আক্রান্তরা অনুধাবনে সক্ষম হননি। অক্টোবর থেকে টেস্টের মাত্রা আশাব্যঞ্জকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় সংক্রমণের ব্যাপারটি নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে সহজে।

এদিকে, নিউইয়র্ক, নিউজার্সি, টেক্সাস, পেনসিলভেনিয়া, মিশিগান স্টেটে করোনা সংক্রমণের হার চরমে উঠায় জনমনে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন বিধি আরোপ করলেও আতঙ্ক কমেনি। এসব স্টেটের অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি এবং রেস্টুরেন্টের ভেতরে বসে থাকারের অনুমতি বাতিল করা হয়েছে। রাত ১০টার পর রেস্টুরেন্ট, বার, ব্যায়ামাগার বন্ধের নির্দেশ জারি করা হয়েছে। করোনায় আক্রান্ত ৪২ স্টেটের অধিকাংশেই ‘নো-মাস্ক-নো সার্ভিস’ চালু রয়েছে।

মসজিদ, মন্দির, চার্চে উপাসনায় স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব অবশ্যই মানার নির্দেশও বহাল করা হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেইসবুক পেইজ