বৃহস্পতিবার, ২১ জানুয়ারী ২০২১, ০৯:০৩ অপরাহ্ন

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরুর জন্য মিয়ানমারকে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ

মিয়ানমারকে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু করার জন্য মিয়ানমারকে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ। নতুন বছরের প্রথম দিনই মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সেলর দফতরের মন্ত্রী টিন্ট সোয়েকে এ চিঠি দিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. আব্দুল মোমেন।

এ ব্যাপারে রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে ড. মোমেন বলেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। আমরা এ বছর প্রত্যাবাসন শুরু করতে চাই। চিঠিতে প্রত্যাবাসন নিয়ে মিয়ানমারকে তাদের দেয়া প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছি। তারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল নিরাপত্তা দিয়ে রোহিঙ্গাদের ফেরত নেবে। রাখাইনে সহায়ক পরিবেশ তৈরি করবে। কিন্তু এখনো কোনো অগ্রগতি হয়নি। আমি বলেছি এর জন্য দরকার রাজনৈতিক সদিচ্ছা। নববর্ষে আমরা আশা করি যে আপনারা আপনাদের কথা রাখবেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ১ জানুয়ারি মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চির দফতরের মন্ত্রী থিন সুয়েসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে ইংরেজি নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানিয়ে চিঠিতে প্রত্যাবাসনের আবশ্যকতার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। প্রত্যাবাসনই আমাদের অগ্রাধিকার, একইসাথে এটি চ্যালেঞ্জও।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৮ ও ১৯৯২ সালে প্রতিশ্রুতি দিয়ে রোহিঙ্গাদের ফেরত নিয়েছিল মিয়ানমার। আমি বলেছি, অতীতে কথা রেখেছেন। এখন নিজেদের লোকগুলো নিয়ে যান। যদি এদের ফিরিয়ে না নেয়া হয়, তবে এ অঞ্চলে অশান্তির আশঙ্কা রয়েছে। রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান একমাত্র মিয়ানমারই করতে পারে।
মিয়ানমারের ব্যবহারে পরিবর্তন হচ্ছে উল্লেখ করে ড. মোমেন বলেন, আমরা আশাবাদী। দ্বিপক্ষীয়, ত্রিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় আলোচনা অব্যাহত রেখেছি। এমনকি আইনি কাঠামোর মধ্যেও কাজ করছি। যত ব্যবস্থা আছে সব নিয়ে কাজ করছি।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যাচাই-বাছাই করার জন্য ছয় লাখের বেশি রোহিঙ্গার তালিকা মিয়ারমারকে দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে তারা ২৮ হাজার যাচাই-বাছাই করেছে। তারা অত্যন্ত ধীরগতিতে ব্যবস্থা নিচ্ছে। তিনি বলেন, ভারত, জাপান, চীন- সবাই আমাদের সাথে একমত যে মিয়ানমারেই সমস্যার সমাধান নিহিত। প্রত্যাবাসন শুরু করতে বাংলাদেশ, চীন ও মিয়ানমার- ত্রিপক্ষীয় ব্যবস্থার উদ্যোক্তা হচ্ছে চীন। বেইজিং এটি নিয়ে কাজ করছে। আমরা সবসময় প্রস্তুত। তারা যখন তারিখ দেবে আমরা বসব। মিয়ানমারই এটা পেছাচ্ছিল। আশা করছি চীনের মধ্যস্থতায় বেইজিংয়ে শিগগির একটি বৈঠক হবে এবং এতে প্রত্যাবাসন শুরুর দিনক্ষণ নির্ধারিত হবে।

ড. মোমেন বলেন, জাপানের অনেক বড় বিনিয়োগ মিয়ানমারে রয়েছে। মিয়ানমারের ওপরে জাপানের প্রভাবও অনেক। প্রত্যাবাসন শুরুতে সহায়তা করার জন্য জাপানকে অনুরোধ করেছিলাম। তারা বলেছিল নিশ্চয়ই তারা আমাদের সাহায্য করবে। তবে জাপানের উদ্যোগের কাঠামো এখনো তৈরি হয়নি। এটি চীনের উদ্যোগের বাইরে। ভারত আমাদের বলেছে, তারা মিয়ানমারের সাথে আলাপ করবে এবং সহায়তা করবে। তারাও চায় রোহিঙ্গারা ফেরত যাক।

বিদেশী রাষ্ট্রদূতদের ভাসানচর নেয়া হবে : পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, ভাসানচর নিয়ে অনেক মিথ্যা প্রচারণা চালানো হচ্ছে। বলা হচ্ছে, এটি ভেসে যাবে। কিন্তু ১৯৯০ সাল থেকে আমরা দ্বীপটি পর্যবেক্ষণ করছি। সর্বশেষ আমফানেও ভাসানচরের কোনো ক্ষতি হয়নি। তিনি বলেন, মিথ্যা প্রচারণা বন্ধ করতে আমরা বিদেশী রাষ্ট্রদূতদের ভাসানচরে নিয়ে যেতে চাই। একইসাথে মিডিয়াসহ আগ্রহীরা যাবে। জাতিসঙ্ঘকে আগেও ভাসানচর নেয়া হয়েছে। প্রয়োজনে আবারো যাবে। তাদের ভাসানচর দেখাতে চাই। তারা দেখলেই বুঝবেন, সেটা নিরাপদ এলাকা।

ড. মোমেন বলেন, কেউ কেউ বলছেন, আমরা নাকি পয়সা দিয়ে রোহিঙ্গাদের ভাসানচর নিয়ে গেছি। আমি বলতে চাই, কোনো রোহিঙ্গাকে পয়সা দিয়ে ভাসানচর নিয়ে যাওয়া হয়নি।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শিবিরে ভূমিধস হতে পারে। অপরাধপ্রবণতা বাড়ছে। পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে। এ ছাড়া সামাজিক সমস্যা তৈরি হচ্ছে। স্থানীয় ব্যক্তিদের মজুরি কমে গেছে, জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে। এ কারণে কক্সবাজারের ওপর চাপ কমাতে রোহিঙ্গাদের একাংশকে ভাসানচরে স্থানান্তর করছে সরকার।

এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ফোর জি নেটওয়ার্ক রয়েছে। ইন্টারনেট ব্যবহার করে অনেক রোহিঙ্গা নারী বিদেশীদের বিয়েও করেছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেইসবুক পেইজ