শনিবার, ০৬ মার্চ ২০২১, ০৪:৪৯ পূর্বাহ্ন

শিবির ক্যাডার এখন আ.লীগের ‘নিয়ন্ত্রক’

 

বেড়ে ওঠা শিবির ক্যাডারের দেহরক্ষী হিসেবে, এখন নিজেকে দাবি করেন চট্টগ্রামে ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের রাজনীতির একজন নিয়ন্ত্রক। গত বুধবার কথা বলার সময়ও তিনি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচনে সক্রিয় কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে ছিলেন। নাম তার মোহাম্মদ হাছান। রাউজানের উত্তর সর্ত্তা গ্রামে তিনতলা বিলাসবহুল ডুপ্লেক্স বাড়ি। কক্ষগুলো সাজানো দামি টাইলস ও আসবাবপত্রে। চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের পেছনে আম্বিয়া সেরিন নামের ভবনে রয়েছে বিলাসবহুল ফ্ল্যাট। ওই ভবনেরই পার্কিংয়ে তার দৃষ্টিনন্দন অফিস। দ্বিতীয় তলায় গড়েছেন ব্যায়ামাগার। আছে তিনটি দামি গাড়িÑ একটি ল্যান্ড ক্রুজার জিপ, একটি হোন্দাই জিপ ও অন্যটি প্রিমিওকার। অথচ দৃশ্যমান কোনো ব্যবসা বা চাকরি নেই মোহাম্মদ হাছানের।

চট্টগ্রামের আওয়ামী লীগ নেতারা তাকে জামায়াত-শিবিরের ক্যাডার বলে দাবি করলেও কেন্দ্রে হাসানের ব্যাপক কদর! শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বোঝাতে তাদের সঙ্গে তোলা একগাদা ছবি দিয়ে সাজিয়েছেন নিজের ফেসবুক পেজ, ফ্ল্যাট ও অফিস কক্ষ। কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকেও ধারণ করেন নিজের সেলফিতে। এর বাইরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, প্রয়াত মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী, শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, চসিক প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন, চট্টগ্রাম মহানগর মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী হাসিনা মহিউদ্দিন, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সংসদ সদস্য মোছলেম উদ্দিন আহমদ, চসিক মেয়রপ্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরী, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এমএ সালাম, ফটিকছড়ির সংসদ সদস্য খাদিজাতুল আনোয়ার সনি, সংসদ সদস্য পঙ্কজ দেবনাথ, চট্টগ্রামের সাবেক পুলিশ কমিশনার মাহাবুবর রহমান, কেন্দ্রীয় নেতা আমিনুল ইসলামসহ স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের বর্তমান ও সাবেক অনেক নেতা এবং ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গেও রয়েছে তার হাস্যোজ্জ্বল ছবি।

শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল অবশ্য আমাদের সময়কে বলেন, ‘কোনো একসময় হজে গিয়ে আমার বাবার (এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী) সঙ্গে একটি ছবি তুলেছিল হাসান। পরে সেটি দেখিয়ে সে কাছে আসে। কোমরে একটি পিস্তল নিয়ে একসময় আমাদের চশমা হিলের বাসায় আসত। কিন্তু তার ব্যাপারে সবকিছু জানার পর তাকে আমার কাছে আসতে, সব ধরনের যোগাযোগ রাখতে মানা করে দিয়েছি। সে মূলত একজন ধূর্ত প্রকৃতির মানুষ। আমি শুনেছি গোপাল কৃষ্ণ মুহুরীর হত্যাকারীদের সে ট্যাক্সি চালিয়ে পালাতে সাহায্য করেছিল। চট্টগ্রামে টিংকু (প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা জাহাঙ্গীর সাত্তার টিংকু) ভাইয়ের সব ব্যবসাই হাসান হাতিয়ে নিয়েছে।’

মোহাম্মদ হাছানের আছে দুটি বৈধ আগ্নেয়াস্ত্র। একটি পিয়েত্রো বেরেতা ব্র্যান্ডের ইতালির তৈরি পিস্তল; লাইসেন্স নম্বর ৮২১৪/কোতোয়ালি, বডি নম্বর ৯২৫১০। অন্যটি শটগান; লাইসেন্স নম্বর ৯২৭৪/কোতোয়ালি, বডি ৬০৩২৫৬৪। তবে একসময় নিজের ফেসবুক ওয়ালে পিস্তল হাতে তার একটি ছবি দিয়েছিলেন, যেটি ২০১৫ সালে কেনা লাইসেন্সকৃত দুই অস্ত্রের কোনোটিই নয়। সেটি মূলত ওয়ালথার পিপিকে ব্র্যান্ডের পিস্তল।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেইসবুক পেইজ