সোমবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২১, ০৭:৫৮ অপরাহ্ন

শেখ হাসিনার গাড়িবহরে হামলা মামলায় আরও তিনজনের সাক্ষ্যগ্রহণ

সাক্ষ্যগ্রহণ

তৎকালিন বিরোধী দলীয় নেতা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গাড়ি বহরে হামলার ঘটনার মামলায় আরও তিনজনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার সাতক্ষীরা চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হুমায়ুন কবির তার আদালতে এই সাক্ষীদের জবানবন্দী রেকর্ড করেন।

যাদের জবানবন্দী গ্রহণ তারা হলেন বাস চালক মোঃ নজিবুল্লাহ, সাংবাদিক হাবিবুর রহমান ও সাংবাদিক সুভাষ চৌধুরী। সরকার পক্ষে এই মামলা পরিচালনা করেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল এসএম মুনীর ও দুই ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সুজিত কুমার চ্যাটার্জী ও হাশেম আলী সরদার ও সাতক্ষীরা জজ আদালতের পিপি এ্যাডভোকেট আব্দুল লতিফ।

আসামি পক্ষে ছিলেন এ্যাডভোকেট আব্দুল মজিদ এবং এ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান
পিন্টুসহ অন্যরা।

২০০২ সালের ৩০ আগস্ট তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনা সাতক্ষীরার
কলারোয়ার হিজলদী গ্রামের গণধর্ষণের শিকার মুক্তিযোদ্ধা পত্নী মাহফুজা
খাতুনকে চিকিৎসারত অবস্থায় সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে দেখতে আসেন। এরপর
তিনি হাসপাতালের সামনে পথসভায় ভাষণ শেষে কলারোয়া হয়ে মাগুরা অভিমুখে রওনা হন। কলারোয়া বাজারে পৌছানোর পর তার গাড়িবহরে হামলা ও গুলির ঘটনা ঘটে।

শেখ হাসিনা অক্ষত থাকলেও তার সফরসঙ্গী তৎকালিন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ইঞ্জিনিয়র শেখ মুজিবুর রহমানসহ কয়েকজন আহত হন। বিরোধী দলীয় নেত্রীর নিরাপত্তারক্ষীরা তাকে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেন।

এ ঘটনা নিয়ে কলারোয়ার মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোঃ মোসলেম উদ্দিন ২৭ জনের
নাম উল্লেখ অজ্ঞাত ৭০/৭৫ জনের নামে থানায় ব্যর্থ হয়ে আদালতে মামলা দায়ের
করেন। পরে উচ্চ আদালতের নির্দেশে একযুগ পর ২০১৪ সালের ১৫ অক্টোবর কলারোয়া থানায় মামলাটি রেকর্ড করা হয়।

এরপর ২০১৫ সালের ১৭ মে জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবুল ইসলাম হাবিবসহ ৫০ জনের নামে আদালতে চার্জশীট প্রদান করে পুলিশ। অপরদিকে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় সাংবাদিক সুভাষ চৌধুরী কলারোয়া থানায় একটি জিডি করেন। মুক্তিযোদ্ধা মোসলেম উদ্দিনের মামলাটি কয়েক দফা খারিজ হয়ে যাবার পর ২০১৪ সালের ১৫ অক্টোবর পুনরুজ্জীবিত হয়। পুলিশ ফের তদন্ত করে বিএনপির সাবেক এমপি হাবিবুল ইসলাম হাবিব সহ ৫০ জনের বিরুদ্ধে চার্জশীট দেয়। চলমান এই মামলায় বর্তমানে সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে।

৩০ জন সাক্ষীরা মধ্যে আজ নিয়ে মোট ১৮ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে।

অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল এসএম মুনীর বলেন, তারা সাতক্ষীরার সরকারপক্ষের উকিলকে সহায়তা করতে ঢাকা থেকে এসেছেন। আগামী ৩ মাসের মধ্যে মামলাটি নিষ্পত্তি হবার কথা রয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেইসবুক পেইজ